
বিশ্ব সাইকেল দিবসে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা বসিরহাটে, মহকুমা শাসকের উদ্যোগে অভিনব র্যালি
সীমান্ত থেকে সুন্দরবন—সমগ্র অঞ্চলকে দূষণমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার এক অভিনব উদ্যোগ দেখা গেল উত্তর ২৪ পারগনার সীমান্ত শহর বসিরহাটে। আজ, ৭ই জুন ‘বিশ্ব সাইকেল দিবস’ উপলক্ষে বসিরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে শহর জুড়ে একটি বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়। একদিকে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ রোধ করা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারের উপযোগিতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
এদিন সকালে বসিরহাট টাউন হল মাঠ থেকে এই সচেতনতা র্যালির সূচনা হয়। সুসজ্জিত এই র্যালিটি শহরের প্রধান পথ ইটিণ্ডা রোড পরিক্রমা করে ইছামতি বোটঘাটে এসে শেষ হয়। রাজ্য সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাইকেল নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন স্বয়ং বসিরহাটের উপ-মহকুমা শাসক অঞ্জন চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে র্যালির নেতৃত্ব দেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিন্টু ঘরামী এবং অন্যতম পদস্থ আধিকারিক কল্যাণ বসু। মহকুমা প্রশাসনের সমস্ত স্তরের কর্মচারীরাও এই সাইকেল মিছিলে অংশ নেন।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতে ছিল পরিবেশ সচেতনতামূলক নানা বার্তা সংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার। যেখানে প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সাইকেল চালানোর মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমানোর আহ্বান জানানো হয়। বিশ্ব সাইকেল দিবস উদযাপনের পাশাপাশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে এক সুস্থ ও গতিশীল সমাজ গড়ার বার্তা দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় বসিরহাটের উপ-মহকুমা শাসক অঞ্জন চৌধুরী জানান, "আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিশ্ব সাইকেল দিবসের এটাই বার্তা যে, আমাদের সাইকেলের ব্যবহার বাড়ুক। হেলদি লাইফের জন্য, পলিউশন ফ্রি ছোটখাটো যে আমাদের যাতায়াত আছে, সেগুলো আমরা সাইকেল ব্যবহার যেন বেশি করি।"
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, "আমাদের গোটা পৃথিবী পলিউশনে ভরে যাচ্ছে। এর জন্য আমরা নিজেরা শারীরিক পরিশ্রম বা অন্যান্য জিনিসগুলো খুব কম করছি। তো তাতে যদি আমরা ডেইলি লাইফে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য সাইকেলে করে যাই, তাহলে কিন্তু একদিকে যেমন আমরা হেলদি লাইফ করব, আর তার সাথে সাথে আমরা কিন্তু জ্বালানি বা অন্যান্য জিনিসেরও অপচয়টা কমাতে পারব।" সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "সব শ্রেণীর মানুষরা যাতে সাইকেলটা ব্যবহার করে। অনেক উন্নত দেশেও এখন সাইকেল ব্যবহারের দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। আমরাও চাইছি সবাই মিলে একসাথে এই বার্তাটাই সবাইকে দিতে।" সরকারি আধিকারিকদের এই ইতিবাচক ভূমিকা এবং সাইকেল নিয়ে রাস্তায় নামার এই দৃশ্য স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।