"গৌ সম্মান আহ্বান অভিযান " কর্মসূচির মধ্য দিয়ে " গোরুকে ( গোমাতা কে) " রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা ও দেশ জুড়ে গো হত্যা বন্ধের দাবিতে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা করে বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দফতরে দাবি পত্র পেশ
গরুকে (গোমাতা কে )রাষ্ট্রমাতার স্বীকৃতি এবং দেশজুড়ে গো-হত্যা সম্পূর্ণ বন্ধের দাবিতে রবিবার বাঁকুড়া শহরে অনুষ্ঠিত হলো ‘গৌ সম্মান আহ্বান অভিযান’। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ঢাক-ঢোলের বাদ্য, সুসজ্জিত গোমাতা এবং শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে শহরের রাজপথে উঠে এল গো-সংরক্ষণের বার্তা। শোভাযাত্রা শেষে বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দফতরে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।
রবিবার সকালে বাঁকুড়া হিন্দু স্কুল ময়দান থেকে শুরু হয় গৌ সম্মান আহ্বান অভিযান। হাতে ব্যানার, পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন শতাধিক মানুষ। ঢাকের বাদ্য, ধর্মীয় সঙ্গীত এবং স্লোগানের মধ্য দিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে এই শোভাযাত্রা পৌঁছায় বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দফতরে।
শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফুল ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত গোমাতা। পাশাপাশি লোকসংস্কৃতির বাদ্যযন্ত্র, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং ধর্মীয় আবহে গোটা কর্মসূচি হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয়।
অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের মূল দাবি ছিল গরুকে( গোমাতা কে ) রাষ্ট্রমাতার স্বীকৃতি প্রদান এবং সারা দেশে গো-হত্যা সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। তাঁদের বক্তব্য, ভারতীয় সংস্কৃতি, কৃষি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গোমাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই গো-সংরক্ষণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তাঁরা।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলার বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ। সকলেই একসঙ্গে এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
শহরের বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করার পর শোভাযাত্রা বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দফতরে পৌঁছায়। সেখানে প্রতিনিধিদল গোরুকে ( গোমাতা কে) রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা এবং দেশজুড়ে গো-হত্যা বন্ধের দাবিতে জেলা শাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। তাঁদের আশা, এই দাবিগুলি দেশের সর্বোচ্চ স্তরে গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হবে।
পুরো কর্মসূচি জুড়ে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন এবং মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় গোটা কর্মসূচি।
গরুকে ( গোমাতা কে)রাষ্ট্রমাতার স্বীকৃতি এবং দেশব্যাপী গো-হত্যা বন্ধের দাবিকে সামনে রেখে বাঁকুড়ার রাজপথে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জেলা শাসকের দফতরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক বার্তার সমন্বয়ে এই কর্মসূচি ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হয় বিশেষ উৎসাহের পরিবেশ।