"লবণ থাকলে মরিচ নাই, মরিচ থাকলে সিদল নাই, সিদল থাকলে মোম নাই, মোম থাকলে কারেন্ট নাই—শুধু নাই, নাই আর নাই!" কথা গুলো কোনো ব্যাঙ্গাত্মক ছড়া নয়, বরং ত্রিপুরার জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রীর নিজস্ব বিধানসভা এলাকার এক দরিদ্র পরিবারের নির্মম বাস্তবতার আর্তনাদ।
ত্রিপুরা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী তথা ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিকাশ দেববর্মার বিধানসভা এলাকার চাকমাঘাট শিবিরে বসবাস করেন পরেশ দেববর্মা। স্ত্রী ও দুই সন্তান'কে নিয়ে চার সদস্যের সংসার। পেশায় তিনি একজন দৈনিক মজুর। অনিশ্চিত আয়ের উপর ভর করেই কোনোরকমে চলছে সংসারের চাকা।
অভিযোগ, বছরের পর বছর কেটে গেলেও এই পরিবারটির ভাগ্যে জোটেনি একটি বি.পি.এল বা অন্তোদয় রেশন কার্ড। মাথা গোঁজার একমাত্র সম্বল একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ঘরের চাল দিয়ে জল পড়ে, শিলাবৃষ্টির সময় প্রাণ হাতে নিয়ে রাত কাটাতে হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে অন্ধকার।
পরেশ দেববর্মার পরিবারের দাবি, বহুবার এলাকার জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বরং মিলেছে শুধু আশ্বাস, অপমান ও বঞ্চনা।
পরেশ দেববর্মার স্ত্রীর অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। তাঁর দাবি, এ.পি.এল রেশন কার্ড'কে বি.পি.এল বা অন্তোদয়ে রূপান্তর করার জন্য নাকি বিভিন্ন মহল থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিলে তবেই রেশন কার্ড পরিবর্তন করে দেওয়া হবে—এমনই অভিযোগ তাঁর। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তাঁর আক্ষেপ, "কখনো লবণ থাকে তো মরিচ থাকে না, মরিচ থাকলে সিদল নেই, সিদল থাকলে মোম নেই, আর মোম থাকলেও কারেন্ট নেই।" অভাব যেন এই পরিবারের নিত্যসঙ্গী।
এদিকে, সরকারি সভা-সমাবেশে বারবার দাবি করা হয় যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাকমাঘাট শিবিরের এই পরিবারের ভাঙ্গাচোরা কুঁড়েঘর সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর ফারাকেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরেশ দেববর্মার এ.পি.এল রেশন কার্ডটি নাকি চাকমাঘাট এলাকার এক ব্যাক্তির কাছে অর্থের বিনিময়ে গচ্ছিত রয়েছে। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এখন প্রশ্ন উঠছে—যে বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধি স্বয়ং রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী, সেই এলাকারই এক অসহায় পরিবার যদি বছরের পর বছর মৌলিক অধিকার ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে উন্নয়নের বহুল প্রচারিত দাবিগুলোর বাস্তব ভিত্তি কতটা দৃঢ়?
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসে কি না।
Amarpur, Gomati | Jul 14, 2026