শম্পা মুখার্জির উদ্যোগে বিহারীনাথ ধামগামী শিবভক্তদের সেবায় রাঙ্গামাটি গ্রামে মানবিকতার অনন্য নজির! শিবভক্তদের সেবায় রাত জেগে রাঙ্গামাটির সমাজকর্মীরা পাশে থাকার প্রয়াস করল
🛕🔱শ্রাবণ মাস মানেই শিবের আরাধনা, ভক্তি আর আস্থার এক অনন্য মিলন। আর সেই ভক্তির পথকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলতে মানবিক উদ্যোগের নজির গড়লেন বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া ব্লকের রাঙ্গামাটি গ্রামের সমাজকর্মীরা।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ভোর । চারিদিকে “বোল বাম” আর “হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখরিত পথঘাট। বিহারীনাথ ধাম মন্দিরের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার শিবভক্ত ও বোম ভোলে পূর্ণার্থীরা পদযাত্রা করে এগিয়ে চলেছেন।
এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ক্লান্ত ভক্তদের পাশে দাঁড়াতে রাঙ্গামাটি গ্রামের দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বিশেষ সেবাশিবিরের। সেখানে আগত শিবভক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঠান্ডা সরবত, মিষ্টি এবং জলখাবার। পাশাপাশি পানীয় জলেরও ব্যবস্থা করা হয়, যাতে যাত্রাপথে ভক্তদের কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
এই মানবিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন রাঙ্গামাটি গ্রামের সমাজকর্মী শম্পা মুখার্জি। তাঁর সঙ্গে গ্রামের আরও বহু সমাজকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক রাত জেগে নিষ্ঠার সঙ্গে শিবভক্তদের সেবা করেন। কেউ সরবত পরিবেশন করছেন, কেউ মিষ্টি দিচ্ছেন, আবার কেউ বিশ্রামের ব্যবস্থা করে ভক্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
শম্পা মুখার্জি জানান, শ্রাবণ মাসে শিবভক্তদের সেবা করাকে তাঁরা এক ধরনের পুণ্যকর্ম ও সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রামের মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এসে এই উদ্যোগকে সফল করেছেন।
রাঙ্গামাটি গ্রামের এই উদ্যোগ শুধু আপ্যায়নেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানবসেবা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। শিবভক্তদের মুখে হাসি ফোটাতেই তাঁদের এই ছোট্ট প্রয়াস, যা পথচলতি বহু মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মানুষের পাশে মানুষ—এই বার্তাকেই সামনে রেখে রাঙ্গামাটি গ্রামের সমাজকর্মীদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। শ্রাবণের পবিত্র আবহে শিবভক্তদের সেবায় এমন মানবিক উদ্যোগ আগামী দিনেও অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই আশা সকলের।