# **কালনা-শান্তিপুর সেতুতে ১৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দের ঘোষণা, খুশির জোয়ার কালনায়; লাড্ডু বিতরণ বিজেপি কর্মীদের**
**নিজস্ব সংবাদদাতা, কালনা:**
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কালনা-শান্তিপুর সেতু নির্মাণে ১৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে কালনায়। রাজ্য বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজ্যপালের ভাষণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উল্লেখ হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার বিকেলেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকায় লাড্ডু বিতরণ করে আনন্দ উদযাপন করেন।
কালনার হাঁসপুকুর এলাকার ২৪৭ নম্বর বুথে বুথ সভাপতি উত্তম হালদারের নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে লাড্ডু তুলে দেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, বহুদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা এই সেতু বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা কালনা ও শান্তিপুরের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিন কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে চলতি বছরেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, “অনেকে সেই সময় আমাদের প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দেননি, এমনকি উপহাসও করেছিলেন। কিন্তু আজ রাজ্যপালের ঘোষণার মাধ্যমে প্রমাণ হল, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করে।”
সেতুর বরাদ্দের খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করে কালনা জুড়ে। জমিদাতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ—সকলেই এই প্রকল্পকে এলাকার উন্নয়নের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
পাঁচ বছর আগে সেতুর জন্য জমি দেওয়া এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, “এই সেতু তৈরি হলে পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। যাতায়াতের সময় কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, পর্যটনেরও উন্নতি হবে। আমরা বহু বছর আগে জমি দিয়েছিলাম, এবার যদি সত্যিই কাজ শুরু হয়, তার থেকে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কালনায় প্রশাসনিক সভায় এসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন। এরপর পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রকল্পের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলে। কালনা-২ ব্লকের সাহাপুর মৌজায় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের জন্য কালনার সাতগাছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব সাহাপুর, কুলিয়াদহ, বারাসত ও হাঁসপুকুর মৌজার মোট ১৩১টি প্লটে প্রায় ৪৮ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। বাজার মূল্যের তুলনায় বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অধিকাংশ কৃষক স্বেচ্ছায় জমি দিতে রাজি হন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯৭ শতাংশ। সামান্য কিছু জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
এবার ১৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণার পর সেই অবশিষ্ট জমি-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত মিটিয়ে কবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কালনা ও শান্তিপুরের মানুষ। বহুদিনের স্বপ্নের এই সেতু বাস্তবায়িত হলে পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন আরও সহজ হবে, তেমনই শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।