
মিষ্টিতে পোকা! হাবড়ার নামী দোকানে ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগে চাঞ্চল্য, আইফোন ও টাকা দাবির অভিযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাবড়া:
উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় এক নামী মিষ্টির দোকানের লাড্ডু ও সন্দেশে পোকা পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায়। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল সত্য সামনে আসতেই হতবাক সাধারণ মানুষ। দোকানদারের সুনাম নষ্ট করার হুমকি দিয়ে মোটা টাকা এবং আইফোন (iPhone) আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে দু'জনের বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
হাবড়ার প্রফুল্লনগর এলাকার বাসিন্দা তথা ওই মিষ্টি দোকানের মালিক নয়নবাবু জানান, সম্প্রতি তাঁর দোকান থেকে কেনা লাড্ডু ও কয়েকটি সন্দেশে পোকা দেখা গেছে— এমন দাবি করে তাঁর কাছে একটি ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি ছিল, এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দোকানের নাম ও ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করে দেওয়া হবে।
আইফোন ও নগদ টাকার দাবি:
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ে একটি জায়গায় ডাকা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ওই ভিডিও মুছে ফেলার শর্ত হিসেবে একটি দামি 'আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স' (iPhone 15 Pro Max) ফোন এবং নগদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
দোকানদারের সাফাই ও এফএসএসএআই (FSSAI) প্রসঙ্গ:
গোটা ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন দোকানের মালিক নয়নবাবু। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তাদের মিষ্টির কারখানাটি সম্পূর্ণ আধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে চলে। কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা 'ফ্যাসাই' (FSSAI)-এর সমস্ত গাইডলাইন এবং কঠোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখেই সেখানে মিষ্টি তৈরি করা হয়। তাই উৎপাদন পর্বে মিষ্টিতে পোকা থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ইচ্ছাকৃতভাবে বাইরে থেকে পোকা ফেলে এই ব্ল্যাকমেলিংয়ের ফাঁদ পাতা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
পুলিশের তদন্ত শুরু:
এই ঘটনায় দেবীনগর এলাকার বাসিন্দা শায়লী সূত্রধর ও সুব্রত দে নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে হাবড়া থানার পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ব্ল্যাকমেলিংয়ের এই ঘটনার নেপথ্য আসল সত্য কী, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।