
রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন হকাররা। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ এক গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে যে আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। যাদবপুর, বালিগঞ্জ, বামুনগাছি, গুমা, বনগাঁ, বারুইপুর, ডানকুনি ও দুর্গানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে এবং মোট ২৫টি মামলা একসঙ্গে শুনানি করে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই স্থগিতাদেশের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে যেখানে আদালত স্পষ্ট করেছে যে রেলের মানচিত্র অনুযায়ী জায়গা চিহ্নিত করলেই হবে না বরং বাস্তবে সেই জমি রেলেরই কি না তা সরেজমিনে যাচাই করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া হকারদের মৌলিক অধিকার ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে যে কোনো বিকল্প পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানো যায় না। যেসব হকার দীর্ঘ সময় ধরে রেলের অনুমতি বা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন, তাদের বিষয়টিও আলাদাভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে অনেক ক্ষেত্রেই উচ্ছেদের নোটিস ছিল অস্পষ্ট যেখানে নির্দিষ্ট কারণ বা সুনির্দিষ্ট জায়গার কথা উল্লেখ ছিল না। মামলাকারীদের হয়ে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষদের জীবন-জীবিকার অধিকার এভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে নিরাপত্তার যুক্তি তোলা হলেও আদালত আপাতত কঠোর উচ্ছেদ অভিযানের পথে না হেঁটে আইন মেনে এবং উপযুক্ত যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বলেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে এবং এরপর পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয় সেদিকেই এখন নজর থাকবে হাজারো হকারের।