
বেআইনি ওভারলোড কয়লা বোঝাই ডাম্পারের দৌরাত্ম্য!
#harrsnews #koyla #purliya
সরকার বদলেছে, প্রশাসন বদলেছে, কিন্তু ওভারলোডের ‘খেলা’ কেন বন্ধ হচ্ছে না?
প্রশ্ন উঠছে—
এত সংখ্যক বেআইনি ভারী যানবাহন প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট রুট দিয়ে যাতায়াত করলেও সংশ্লিষ্ট পরিবহন দপ্তরের নজরদারি কোথায়?
আমাদের চ্যানেলে একাধিকবার এই অভিযোগ ও বেআইনি ওভারলোডর যান চলাচলের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এরপর অভিযানও হয়েছে বলে দাবি রয়েছে। কিন্তু সেই অভিযান কি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পেরেছে?
নাকি কয়েকটি গাড়ি আটক করে অভিযান দেখানোর পর ফের আগের মতোই চলছে ওভারলোডের কারবার?
প্রশ্ন উঠছে রঘুনাথপুর RTO-কে
যদি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি বেআইনি ওভারলোড কয়লা বোঝাই ডাম্পার চলাচলের অভিযোগ থাকে, তাহলে—
কতগুলি গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে?
কতগুলি গাড়ি আটক করা হয়েছে?
কতগুলি গাড়ির পারমিট বা কাগজপত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
পুরুলিয়া জেলার নিতুরিয়া এলাকায় ফের সামনে এল সেই একই অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র ও আমাদের দেখা তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বরাচক এবং মেনধামা রেলওয়ে সাইডিং এলাকা থেকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বেআইনি ওভারলোড কয়লা বোঝাই ডাম্পার নিতুরিয়া এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি কারখানার দিকে যাতায়াত করছে।
এবং এখনও যদি একইভাবে গাড়ি চলাচল করে, তাহলে সেই গাড়িগুলির বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
কারণ, সরকারি পরিবহন দপ্তরের অন্যতম দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে যানবাহন সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থাপনা।
আরও গুরুতর অভিযোগ
এই বেআইনি ওভারলোড কয়লা পরিবহনের সঙ্গে ‘মিস্টার খান’ ওরফে ‘নান্নে খান’ নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর যোগ রয়েছে।
এমনকি প্রশাসনের কিছু আধিকারিককে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
তাই সরাসরি প্রশ্ন—
যদি সত্যিই কারও বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ থাকে, তাহলে তদন্ত হবে কবে?
সরকার বদলেছে, কিন্তু ছবি বদলাইনি
রাজনৈতিক সরকার বদলেছে।
ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বেআইনি ওভারলোড কয়লা বোঝাই ডাম্পারের চলাচলের ছবিটা নাকি বদলায়নি!
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—
সরকার বদলেছে, প্রশাসন বদলেছে, কিন্তু ওভারলোডের ‘খেলা’ কেন বন্ধ হচ্ছে না?
একদিকে রাস্তার উপর অতিরিক্ত চাপ, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন—
তারপরও যদি দিনের পর দিন একইভাবে বেআইনি ওভারলোড কয়লা বোঝায় ডাম্পার চলাচল করে, তাহলে নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
রঘুনাথপুর RTO কি সত্যিই এই বেআইনি ওভারলোড কয়লা বোঝায় ডাম্পার চলাচল বন্ধ করতে পারবে?
নাকি ফের কয়েকটি গাড়ি ধরে অভিযান দেখিয়ে কয়েকদিন পর সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে যাবে?
আমাদের প্রশ্ন সরাসরি—
প্রতিদিন কতগুলি বেআইনি ওভারলোড গাড়ি ঢুকছে, কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কতগুলি কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এই হিসাব কি প্রকাশ করবে প্রশাসন?
জনস্বার্থে এই প্রশ্নের উত্তর এবার সাধারণ মানুষ জানতে চাইছে।