
বাচ্চাগুলো খেতে পাচ্ছে তো? গোটা দেশ অনলাইনে খাবার পাঠাচ্ছে যন্তর মন্তরে, রুটি-বিরিয়ানি পানীয় জল থেকে ডেটল-ব্যান্ডেজ
বর্তমান পত্রিকায় প্রকাশিত
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী ছাত্রদের জন্য দেশজুড়ে খাবার পাঠানো হচ্ছে। অনলাইনে অর্ডার ও বাড়ির খাবার নিয়ে আসছে বহু মানুষ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। যন্তর মন্তরের বাইরে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে ফুড ডেলিভারি পার্টনাররা। তাঁদেরই একজন রবি কুমার। দিল্লির গ্রেটার কৈলাসের একটি রেস্তরাঁ থেকে খাবার এনেছেন। অর্ডার কে দিল? যন্তর মন্তরের কোনো প্রতিবাদী পড়ুয়া? রবি জানালেন, ‘আরে না, ছাত্রছাত্রীরা কেউ নয়। অনিল নামে কেউ ২৫টি ভেজ থালির অর্ডার দিয়েছিলেন। এভাবেই বহু মানুষ অনলাইনে খাবারের অর্ডার করছেন। তাঁরা শুধু প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন। আমি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার খাবার নিয়ে এখানে এলাম।
কাঁটা তখন রাত ১০টা ছুঁইছুঁই। ধর্নামঞ্চ থেকে ঘোষণা শুরু হয়েছে, আর কেউ খাবার পাঠাবেন না। রাত পেরিয়ে বুধবার দুপুর দেড়টা। এবার এক্স হ্যান্ডলে সিজেপির অনুরোধ-‘আজকের জন্য পর্যাপ্ত খাবার আমাদের কাছে রয়েছে। দয়া করে আর পাঠাবেন না। খাবার যাতে নষ্ট না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে আমাদের।’
শুধু দিল্লি নয়, যন্তর মন্তরে খাবারের অর্ডার আসছে গোটা দেশ থেকে। শুধু অনলাইন অর্ডারই নয়, বাড়িতে বানানো খাবার নিয়েও বহু মানুষ ধর্নাস্থলে আসছেন। বিরিয়ানির প্যাকেট, ঠান্ডা পানীয় ও জলের কার্টন, কলা, বিস্কুট, চিপস কিছুই বাদ নেই। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ব্যান্ডেজ, তুলো, স্যানিটারি ন্যাপকিন— আসছে দরকারি সবকিছুই।
সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল যন্তর মন্তর চত্বর ও আশপাশের রাস্তাগুলি। তা সত্ত্বেও দু’দিন ধরে যন্তর মন্তর মুখী জনতার স্রোত অব্যাহত। অনেকেই কিছু না কিছু সঙ্গে নিয়ে আসছেন। দক্ষিণ দিল্লি থেকে এসেছেন দুই বন্ধু। তাদের একজন বললেন, ‘পুলিশ তো সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গিয়েছে। ভাবলাম আমাদের সাধ্যমতো কিছু সঙ্গে নিয়ে যাই। তাই দুই কার্টন ঠান্ডা লাহোরি জিরা এনেছি। বিশাল কিছু না হলেও কিছু তো করতে পারলাম।’ চৌড়ি বাজার থেকে আসা ২৩ বছরের উসমান জানালেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের পুলিশ কীভাবে পিটিয়েছে সেই ভিডিয়ো দেখেছি। প্রতিবেশীরা বাড়িতে বানানো রুটি, সবজি, ডাল এসব পাঠিয়েছে। সেই খাবার সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছি।’ ফরিদাবাদ থেকে এসেছেন ২০ বছরের শিবম। কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা করছেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন সিঙাড়া।
ধর্নাস্থলের ভিতরে একটি টেবলের উপর ডাঁই করে রাখা খাবার। সবাইকে সেই খাবার নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। অন্য জায়গায় রাখা হয়েছে স্লিপার, ফেসিয়াল ওয়াইপস, ডেটল, ব্যান্ডেজ, ওষুধ ইত্যাদি। বুধবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্যভট্ট কলেজের পড়ুয়ারা মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যে ৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। তাঁরা জানালেন, এই টাকায় প্রতিবাদী পড়ুয়াদের জন্য স্যানিটারি প্যাড, ওআরএসের প্যাকেট ও খাবার কেনা হবে।
Suri 2, Birbhum | Jul 23, 2026