
পশ্চিমবঙ্গ দিবস | উত্তরবঙ্গকে ভারতের মানচিত্রে রাখার সং*গ্রামী যো*দ্ধা মোহিনী মোহন বর্মন, ইতিহাসের বিস্মৃত নায়ককে স্মরণ।
রাজবংশী সমাজের বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মনীষী পঞ্চানন বর্মার ভাবশিষ্য এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা মোহিনী মোহন বর্মন আজ ইতিহাসের আড়ালে প্রায় বিস্মৃত এক নাম। অথচ উত্তরবঙ্গ তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক ইতিহাসে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
অবিভক্ত বাংলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণকারী মোহিনী মোহন বর্মন রাজবংশী সমাজের অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে ছিলেন অত্যন্ত সোচ্চার। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ ঘটে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রেরণায়। তিনি ছিলেন মনীষী পঞ্চানন বর্মার আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন সং*গ্রামী নেতা।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তিনি ভারতভাগ ও বাংলাভাগের বি*রো*ধিতা করেছিলেন। দেশভাগের ফলে তাঁর নিজের গ্রামও পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। মাতৃভূমির বিভাজন এবং পূর্ব পাকিস্তানে রাজবংশীসহ বিভিন্ন হিন্দু জনগোষ্ঠীর দু*র্দশা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল।
পশ্চিমবঙ্গ গঠনের দাবিতে যখন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর অন্যতম সহযোগী হিসেবে সামনে আসেন মোহিনী মোহন বর্মন। উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি এবং তৎকালীন পশ্চিম দিনাজপুরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী ৫২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
সে সময় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে জনমত গড়ে তোলার কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এই সংগ্রামের ফলেই আজকের জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর পশ্চিমবঙ্গের অংশ হিসেবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—এমনটাই মনে করেন তাঁর অনুগামী ও গবেষকরা।
পরবর্তীকালে বীরত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটে এক ম*র্মা*ন্তিক ঘটনায়। কলকাতার ধর্মতলায় গু*লিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃ*ত্যু হয়। তাঁর সমর্থক ও অনুরাগীদের মতে, সীমান্ত ও ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তাঁর দৃঢ় অবস্থানই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বি*ত*র্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল।
আজ পশ্চিমবঙ্গ দিবসে উত্তরবঙ্গের মানুষ যখন নিজেদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকায়, তখন মোহিনী মোহন বর্মনের মতো সংগ্রামী নেতাদের অবদান নতুন করে স্মরণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। ইতিহাসের আলোয় তাঁর ভূমিকা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম যে গুরুত্বপূর্ণভাবে উচ্চারিত হওয়ার দাবি রাখে, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
প্রণাম, মোহিনী মোহন বর্মন।
উত্তরবঙ্গের ইতিহাসে আপনার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সৌজন্যে - ✍️ পার্থ নিয়োগী।
তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞানী ড. অজয় রায়।
ছবি সৌজন্যে: পার্থ বর্মন(গবেষক ও মোহিনী মোহন বর্মনের)