
গ্রীষ্মে যখন বিদ্যুতের বিল দেখে মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ, ঠিক তখনই আমআদমির পকেটকে স্বস্তি দিতে অভিনব উদ্যোগ রাজ্যের। 'প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফ্ত বিজলি যোজনা'-র আওতায় এ বার বাড়ির ছাদেই সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী। পাশাপাশি কমবে পরিবেশ দূষণ। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি মিলবে। রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তর এবং অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস বিভাগের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্প রূপায়ণের কাজ জোরকদমে শুরু হচ্ছে।দপ্তরের কর্তাদের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু যে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুতের বিল কমবে তাই নয়, বরং গ্রিন এনার্জি বা সবুজ শক্তির ব্যবহারের ফলে দূষণমুক্ত রাজ্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে। গ্রিড সংযোগের সঙ্গে ভর্তুকির টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। এর সঙ্গে সৌর প্যানেল বসানোর খরচের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে কম সুদে লোনের সুবিধেও দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের অপ্রচলিত ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি দপ্তরের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, 'তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের ১০ কোটি মানুষ কেন্দ্রের এই সব প্রকল্পের সুবিধে পাননি। সরকারে আসার পরে মানুষকে এই সব সুবিধে পাইয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।' কী ভাবে এই প্রকল্পের সুবিধে পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন সাধারণ মানুষ? বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, আগ্রহীরা সরাসরি pmsuryaghar.gov.in পোর্টালে গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গ্রিন এনার্জির প্রসার ঘটিয়ে একটি দূষণমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলাই এই যোজনার মূল লক্ষ্য।
২০০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য এক থেকে দুই কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল প্রয়োজন। এতে এককালীন আনুমানিক খরচ ৭০,০০০–১,৪০,০০০ টাকা। ভর্তুকি মিলবে ৩০,০০০–৬০,০০০ টাকা। ফলে, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ দপ্তরের সাশ্রয় হবে আনুমানিক ১০০–২০০ ইউনিট। আর গ্রাহক এর আগে পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল হিসেবে মাসে যে ৭০০–১,৪০০ টাকা পর্যন্ত দিতেন, তাও দিতে হবে না। একই ভাবে ২০০–৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য দুই–তিন কিলোওয়াটের প্যানেল বসাতে হবে। এককালীন খরচ পড়বে ১,৪০,০০০–২,১০,০০০ টাকা। মিলবে ৬০,০০০–৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি। এতে গ্রাহকের মাসিক সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১,৪০০–২,০০০ টাকা।৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের জন্য তিন কিলোওয়াটের অধিক ক্ষমতার প্যানেল লাগবে। এককালীন ২,১০,০০০ টাকার বেশি খরচ হলেও সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা ভর্তুকি পাওয়া যাবে। এর ফলে প্রতি মাসে ২,০০০ টাকারও বেশি বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে পারবেন গ্রাহক। ব্যক্তিগত বাড়ি ছাড়াও গ্রুপ হাউসিং সোসাইটি বা রেসিডেনশিয়াল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কমন সার্ভিসের (যেমন লিফট, লবির আলো ইত্যাদি) জন্য ছাদে সোলার প্যানেল বসালে প্রতি কিলোওয়াটে এককালীন ১৮,০০০ টাকা করে ভর্তুকি পাওয়া যাবে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্যানেল বসানোর প্রাথমিক খরচের টাকা হাতে চলে আসবে এবং পরবর্তী সময়ে বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে বিদ্যুৎ মিলবে।উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, 'বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই কঠিন সময়ে সৌরশক্তির মতো নবীকরণযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। শহরাঞ্চলে ও গ্রামে বাড়ির ফাঁকা ছাদগুলোকে যদি এ ভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়, তবে কার্বন নির্গমন এক ধাক্কায় অনেকটাই কমানো সম্ভব।' এতে শুধু একটি সাশ্রয়ী যোজনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার জন্য একটি প্রয়োজনীয় পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ।