শান্তিপুর স্টেশনে রেলের উচ্ছেদ অভিযান, স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরছেন হকাররা
শান্তিপুর: কেন্দ্র সরকারের ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শান্তিপুর স্টেশনকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রেল দপ্তর। এই প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে এবং যাত্রী পরিষেবা আধুনিক ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে স্টেশনের জমি দখলমুক্ত করতে মরিয়া রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্ব রেলের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই শান্তিপুর স্টেশন চত্বরে শুরু হয়েছে হকার উচ্ছেদ অভিযান।
স্টেশনকে আধুনিক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপুর স্টেশন চত্বরে রেলের জমিতে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ দোকান ও কাঠামো। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্টেশন চত্বরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করে তোলাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্টেশন গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন অনেকটা খোলামেলা জায়গা। সেই জায়গা দখলমুক্ত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
কড়া হুঁশিয়ারি ও সময়সীমা
স্টেশন কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই মাইকে ঘোষণা ও লিফলেট বিলির মাধ্যমে হকারদের বারবার সতর্ক করেছিল। অবৈধ দখলদারদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য ২৬ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। রেলের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি হকাররা তাদের অবৈধ কাঠামো বা দোকান সরিয়ে না নেন, তবে ২৭ জুন রেল কর্তৃপক্ষ বুলডোজার নামিয়ে জোরপূর্বক সেইসব দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে।
হকারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া
রেল কর্তৃপক্ষের এই কড়া হুঁশিয়ারির পর দেখা গেছে এক ইতিবাচক সাড়া। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই অনেক ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের দোকানের কাঠামো সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। বহু হকার নিজেই তাদের দোকানের মালপত্র সরিয়ে নিয়ে জায়গা খালি করে দিয়েছেন, যাতে সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রেলের এই উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়।
যাত্রী স্বার্থে অভিযান অব্যাহত
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, শুধু শান্তিপুর নয়, পূর্ব রেলের আওতায় থাকা প্রতিটি স্টেশনেই যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া লাগাতার চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে রেলের এই কঠোর অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ যাত্রী থেকে সচেতন মহল।
Barasat 1, North Twenty Four Parganas | Jun 26, 2026