
শিমুরালি স্টেশনে রেলের উচ্ছেদ অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একাধিক বেআইনি দোকান, চরম বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিমুরালি:
শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখায় রেলের হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো শিমুরালি স্টেশন এলাকায়। গতকাল সকালে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের আরপিএফ (RPF) এবং রেল আধিকারিকদের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিনের বেআইনি দখলদারি মুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।
গতকাল সকালে ভারী পুলিশ ও আরপিএফ বাহিনী সঙ্গে নিয়ে শিমুরালি স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং সংলগ্ন রেলের জমিতে অভিযান চালান রেল আধিকারিকেরা। প্ল্যাটফর্মে গড়ে ওঠা একের পর এক স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আকস্মিক এই অভিযানে স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কেনাবেচা করা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবসায়ী তড়িঘড়ি নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বেশ কিছু দোকান সম্পূর্ণ ধসে যায়।
রেল প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের অবাধ যাতায়াত সুনিশ্চিত করা এবং ট্রেন চলাচলের সুরক্ষার খাতিরেই এই অভিযান। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা খালি করে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বেআইনি দখলদারি না তোলায় বাধ্য হয়েই প্রশাসনকে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। আগামী দিনেও রেলের জমিতে কোনো বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় হকাররা। তাঁদের দাবি, কোনো পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে আসা হকারদের পেটে লাথি মারা হলো। পরিবার নিয়ে এখন তাঁরা কোথায় যাবেন, সেই চিন্তায় কার্যত দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। বহু হকার দীর্ঘদিনের রুটিরুজি হারিয়ে প্ল্যাটফর্মেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য স্টেশন চত্বর মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ স্টেশন এলাকায় থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও সাময়িক কৌতূহল ও ভিড় জমে যায়। তবে কোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিকেলের মধ্যে উচ্ছেদ কাজ সম্পন্ন করে রেল প্রশাসন।