
৭০ বছর ধরে রথ নেই! তবুও হয় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা | পূর্বসাতগেছিয়া গোস্বামী বাড়ির ৩০০ বছরের ইতিহাস
প্রায় ৭০ বছর ধরে রথবিহীন রথযাত্রা! ৩০০ বছরের ঐতিহ্য আজও টিকে আছে পূর্বসাতগেছিয়ার গোস্বামী বাড়িতে
পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা ২ নম্বর ব্লকের পূর্বসাতগেছিয়া গ্রামের গোস্বামী বাড়িতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মানেই এক অন্যরকম আবেগ। এখানে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আজও অটুট থাকলেও নেই রথ। তাই বছরের পর বছর ধরে রথ ছাড়াই পালিত হচ্ছে রথযাত্রা। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এই রথবিহীন রথযাত্রার সাক্ষী হয়ে রয়েছে গোটা গ্রাম।
স্থানীয়দের দাবি, গোস্বামী বাড়ির জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো। একসময় গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনে ভেসে যায় প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির এবং সেই সঙ্গে রথও। বহু কষ্টে দেবদেবীর বিগ্রহ উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে এনে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হয়। তারপর থেকেই সেই মন্দিরে নিয়ম মেনে চলছে জগন্নাথদেবের নিত্যপুজো, স্নানযাত্রা, রথযাত্রা এবং উল্টো রথের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান। তবে রথ না থাকায় পুরো উৎসবই অনুষ্ঠিত হয় রথবিহীনভাবে।
রথযাত্রার দিন মন্দিরে ভক্তদের ভিড়, পুজো, ভোগ, কীর্তন—সবই হয় আগের মতোই। গ্রামের মানুষজনও উৎসবে সামিল হন। কিন্তু প্রতি বছরই তাদের মনে থেকে যায় একটাই আক্ষেপ—জগন্নাথদেবের রথের দড়ি টানার সৌভাগ্য আজও হয় না। বহু প্রজন্ম ধরে সেই অপূর্ণ ইচ্ছা বয়ে বেড়াচ্ছেন পূর্বসাতগেছিয়ার বাসিন্দারা।
মন্দিরের পূজারী এবং গোস্বামী পরিবারের সদস্য নির্মল গোস্বামী জানান, প্রায় আড়াইশো বছর আগে নদীভাঙনের জেরে জগন্নাথদেবের মন্দির ও রথ দুটোই গঙ্গায় বিলীন হয়ে যায়। এরপর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আর নতুন রথ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই আজও রথ ছাড়াই পালন করা হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।
অন্যদিকে গোস্বামী বাড়ির বধূ মিঠু গোস্বামী জানান, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে বারবার একটি নতুন রথ তৈরির আবেদন জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি মন্দিরে পানীয় জলের অভাবের কথাও জানানো হয়, যাতে ঠাকুরের ভোগ রান্নার জন্য অন্তত জলের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে এখনও আশার আলো ছাড়েননি গোস্বামী পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের আশা, বর্তমান সরকার বা এলাকার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার উদ্যোগ নিলে হয়তো আগামী দিনে জগন্নাথদেব আবার রথে চড়বেন। পূরণ হবে পূর্বসাতগেছিয়ার মানুষের বহু বছরের স্বপ্ন—আবারও গ্রামের পথে গড়াবে জগন্নাথদেবের রথ, আর ভক্তরা টানবেন সেই বহু প্রতীক্ষিত রথের দড়ি।