
ভারতের রেলওয়েতে নতুন যুগের সূচনা: হরিয়ানা থেকে যাত্রা শুরু দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৭ জুলাই ২০২৬: ভারতের রেল পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক ও পরিবেশবান্ধব অধ্যায়ের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে ভার্চুয়ালি ফ্ল্যাগ অফ করার মাধ্যমে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। 'মেক ইন ইন্ডিয়া' প্রকল্পের আওতায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেনটি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ভারতের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করার পথে এক বড় পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যে এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি হরিয়ানার ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরিবেশবান্ধব এই ট্রেনটি ভারতের পরিবহণ মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
রুট ও স্টপেজ:
ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত এই ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ (Jind) স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে সোনিপত (Sonipat) স্টেশন পর্যন্ত মোট ৮৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। যাত্রাপথে ট্রেনটি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি স্টেশনে থামবে, যাতে স্থানীয় যাত্রী এবং সাধারণ মানুষ এই পরিষেবা থেকে উপকৃত হতে পারেন। ট্রেনটির প্রধান স্টপেজগুলো হলো:
১. জিন্দ জংশন (উৎপত্তিস্থল)
২. জিন্দ সিটি
৩. বীরপানা
৪. গোহানা
৫. রুকানপুর
৬. খানপুর কালান
৭. সোনিপত জংশন (গন্তব্য)
পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন:
হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে চলা এই ট্রেনটি কেবল দূষণমুক্তই নয়, এটি শব্দের দূষণও অনেক কমিয়ে আনবে। প্রচলিত ডিজেল ট্রেনের পরিবর্তে এই ট্রেনটিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে হাইড্রোজেন, যার একমাত্র উপজাত (by-product) হলো জলীয় বাষ্প। ১০টি কোচের এই আধুনিক ট্রেনটি একই সাথে প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম। ৭৫ কিলোমিটার গতিতে নিয়মিত চলাচল করলেও, এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলওয়েতে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পের সফলতা পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য রুটেও এই ধরনের পরিবেশবান্ধব ট্রেন চালুর পথ প্রশস্ত করবে।